ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলার রসের উপকারিতা কি?

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস অর্থাৎ রক্তের শর্করা মাত্রা অনেক বেড়ে গেলে তা কম সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেকেই করলার সাহায্য নেন। তিতা এই সবজির রস সকালে খালি পেটে খেলে কমে শর্করার মাত্রা। আয়ুর্বেদেও করলার রসের অনেক গুণের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এই ব্যাপারে চিকিৎসকরা কী বলেন? 

বিগত কয়েক বছরে হু হু করে বেড়েছে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। আমাদের দেশের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে শরীরে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তাই চিকিৎসার মাধ্যমে এই হরমোনের কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এই কাজে ওষুধের পাশাপাশি কার্যকরী ভূমিকা রাখে করলা বা উচ্ছের রস। এটি বিপাকহার সংক্রান্ত রোগবালাই-ও বশে রাখে।

করলার রস খেলে কী উপকার মেলে? 
হজম সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে 
উচ্ছে বা করলার রস হলো অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লিভারের যত্ন নেয়। ফলে বিপাকহার ও হজম সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখে। 

দুশ্চিন্তা কমায় 
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে অনেকেই উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভোগেন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয় সুগারের মাত্রা। করলার রস খেলে হ্যাপি হরমোনের মাত্রা ঠিক থাকে।

ত্বকের যত্ন নেয় 
শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এই পানীয়। ফলে ত্বক ও চুলের জেল্লা স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মুক্ত থাকলে শরীরও সামগ্রিক ভাবে ভালো থাকে।

উচ্ছে বা করলা খেলেই যে সুগার কমবে, এমন নয়। তবে এই সবজিটি রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। এমনকী রক্তে শর্করার মাত্রা চটজলদি বাড়তে দেয় না।এছাড়া করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি নামক একটি উপাদান। এই উপাদান সুগার স্পাইক আটকায়। অর্থাৎ, হুট করে সুগার বেড়ে যায় না।

করলা ব্লেড করে বা পিষে এর রস বের করুন। সঙ্গে পানি মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন। তিতকুটে ভাব কমাতে সঙ্গে মধু বা লেবুর রস মেশাতে পারেন। প্রথমে অল্প পান করুন। ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।