বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে?
- ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৪৭
অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য স্বপ্নের দেশ আমেরিকার দরজা চিরতরে বন্ধের চিন্তা করছেন র্মাকিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন চিন্তায় গোটা দুনিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষদের জন্য এটাকে রীতিমত দু:সংবাদই বলা চলে। বাংলাদেশও কি ট্রাম্পের এ চিন্তার তালিকায় আছে কি না, সে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
থ্যাংকসগিভিংয়ের দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন যে, দরিদ্র দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর এই ঘোষণা আসে। এদের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা যান, যখন ট্রাম্প ভিডিওর মাধ্যমে সৈন্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, “এ পরিস্থিতির পূর্ণ সমাধান একমাত্র বিপরীত অভিবাসন। অন্যথায়, শুভ থ্যাংকসগিভিং, শুধু তাদের ছাড়া যারা ঘৃণা করে, চুরি করে, খুন করে এবং দেশের মূল্যবোধ নষ্ট করে—তোমরা এখানে বেশি দিন থাকবে না।”
ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মনে। যদিও বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা—একটি দেশ যা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীর জন্য বন্ধুবান্ধব হিসেবে পরিচিত।
অবৈধ অভিবাসন দমনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচিত ট্রাম্পের অভিযান ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে। স্কুল, শ্রমক্ষেত্র, নির্মাণ সাইট—সবকিছুই লক্ষ্যবস্তু। আরও বহিষ্কারের সম্ভাবনা অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৩১ মিলিয়ন চাকরি বিদেশি–জন্ম কর্মীর ওপর নির্ভর করছে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অধিকাংশ বিদেশি–জন্ম নাগরিক “কল্যাণ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল, ব্যর্থ রাষ্ট্র থেকে এসেছে, অথবা কারাগার, মানসিক প্রতিষ্ঠান, গ্যাং বা মাদক কার্টেলের সঙ্গে সম্পর্কিত।” তবে গবেষণা দেখায়, অভিবাসীরা দেশের অপরাধ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে না। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীদের কারাবন্দিত্বের হার দেশজ নাগরিকদের তুলনায় কম।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য—“এই পোস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর মধ্যে একটি।”
ট্রাম্পের লক্ষ্য এবার সোমালিয়া থেকে আসা অভিবাসী এবং মিনেসোটা রাজ্য। তিনি লিখেছেন, তারা একসময়ের মহান রাজ্য দখল করছে। গভর্নর ও গত বছরের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টিম ওয়ালজকে তিনি অবমাননাকর শব্দ দিয়ে উল্লেখ করেছেন।
গুলির ঘটনার পর ট্রাম্পের বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বাইডেন আমলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সব আফগান শরণার্থীর পুনরায় তদন্তের দাবি করেন।
বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবার পরিচালক জানিয়েছেন—“উচ্চ ঝুঁকির” ১৯টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে পরীক্ষা করা হবে।
চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত উত্তেজনা। ট্রাম্পের ঘোষণা, গুলি, হুমকি—সব মিলিয়ে দেশের অভিবাসন নীতি আর আগের মতো থাকবে না। অভিবাসী সম্প্রদায়ের দিনগুলো এখন অনিশ্চয়তায় কাটবে।