নিশ্চুপ প্রশাসন, মিয়ানমার সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে
- ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬
টানা দুই দিনে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে সোমবার মাইন বিস্ফোরণে পা উড়ে যায় এক যুবকের। ঠিক আগের দিন মিয়ানমারের ভেতর থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে। দুজনই চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। দুই ঘটনায়, আতঙ্কে সীমান্তের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানায়, কয়েকদিন ধরে সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে গোলাগুলি চলছে। এতে মাঝে মাঝেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। এমনকি ওপার থেকে গুলি, মর্টার শেলের অংশও পড়ছে এপারে।
এমন পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার সকালে নাফ নদীতে মাছের ঘেরে কাজ করছিলেন হানিফ মিয়া। এ সময় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরিত হয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় হানিফের বাম পা। তাঁকে উদ্ধার কোরে হাসপাতালে নেন স্থানীয়রা। রোববার কাছাকাছি জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয় শিশু হুজাইফা। দুই ঘটনায় আতঙ্কে মানুষ।
সীমান্তের এক বাসিন্দা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ হচ্ছে। বলতে গেলে এইখানে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নাই।
বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা জরুরি বলে মনে করেন কক্সবাজারের সচেতন মানুষ।
সীমান্ত বিশ্লেষক শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক বলেন, ‘কক্সবাজার সীমান্তে বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি এখানে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ একিবারে কম। এ নিয়ে সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে সেটা জনগণের সামনে বলা দরকার।’
এসব ঘটনায় সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি এবং সীমান্তে নিরাপত্তা অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। সব সময় আমরা যেভাবে কাজ করি সেটা করছি এবং সেটা আমরা আরও বাড়িয়েছি।’
এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে দুইজনের মৃত্যু হয়।