ডিএসইর সূচকে বড় লাফ
- ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৩
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশের পূজিবাজারে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সে যোগ হয়েছে প্রায় ৯০০ পয়েন্ট। বছরের প্রথম দিনে ডিএসইতে ৩৬৮ কোটি টাকার লেনদেন হলেও গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিন লেনদেনের শুরুতে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪৮৬৫ পয়েন্টে। গতকাল লেনদেন শেষে সূচকটির অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে। এ সময়ে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ৮৯৭ পয়েন্ট বা ১৮.৪ শতাংশ।
এছাড়া নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ চলতি বছরের প্রথমার্ধে ১৭.৫ শতাংশ বেড়ে ২১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৬.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬৮ পয়েন্টে। সূচকের রিটার্নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে গত মার্চে ৭.৫ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছিল। এছাড়া বাকি মাসগুলোতে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
এ সময়ের মধ্যে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ফলে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথমার্ধে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের গড় লেনদেনের (৫২১ কোটি টাকা) চেয়ে বেশি। গত মাসে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ১২০৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে খাতভিত্তিক রিটার্ন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৫০.৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারে ৪৭.২ শতাংশ, সিরামিক খাতে ৩৫.৪ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ২৮.৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে এ সময়ে বিবিধ খাতে ৩২.৬ শতাংশ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৩.২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি শেয়ারদর বেড়েছে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার প্রভাবে এ সময়ে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির (বেক্সিমকো) সবচেয়ে বেশি ৭৩ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে।
গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। এ সময়ে ব্যাংকটির দৈনিক গড়ে ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
গত ছয় মাসে এশিয়ার অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে তুলনায়ও ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। এ সময়ে ডিএসইর সূচকে ১৮.৪ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। যেখানে ভারতের পুঁজিবাজারে ১০.২৯ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কার পুঁজিবাজারে ১.৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে পাকিস্তানের পুঁজিবাজারে ৩.৮৮ শতাংশ, ভিয়েতনামের পুঁজিবাজারে ৪.২৩ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজারে ২৬.৩২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।