খামেনির শেষ বিদায়েও নিশ্চুপ আরবরা

খামেনি
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল

নিহতের চার মাস পর ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি দেশের প্রেসিডেন্টও অংশ নিচ্ছেন। তবে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই চিরবিদায়ে যোগ দেয়নি সৌদি আরবের কেউ।

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ বিদায় জানানার জন্য সপ্তাহব্যাপী আয়োজন করেছে ইরান। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে এটি শুরু হয়েছে। তবে আজ শুধুমাত্র বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদহে রাখা হয়েছে। কাল শনিবার থেকে সাধারণ মানুষ দেখার জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।

সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১৪ মাস আগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত হওয়ার পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু খামেনির মৃত্যুর পর দেশটি থেকে কেউ আসছেন না।

আজ শুক্রবার পর্যন্ত সৌদি তাদের কোনো প্রতিনিধিকে চূড়ান্ত করেনি।

এছাড়া গালফ অঞ্চলের দেশগুলোও খামেনির শেষ বিদায়ে নিজেদের প্রতিনিধিদের পাঠায়নি। যারমধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় তেহরান। এর প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও গোপনে ইরানে হামলা চালায় বলে জানিয়ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে চলা ওই যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আমিরাতে সফর করেছিলেন।

হামলার দিনই খামেনি তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। কিন্তু গালফ অঞ্চলের দেশগুলো এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোক জানায়নি। এর মাধ্যমে তারা মূলত মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে অস্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকছে।
সূত্র: হাউজ অব সৌদ