পাহাড়ে অশান্তি, গুলিতে নিহত ৩
- ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪১
দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ ও জেএসএস গ্রুপের বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পানছড়ি উপজেলায় দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় তিন যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যুবককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের পূজগাং এলাকার মধুমঙ্গল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ওসি মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি জানান, দুপুরে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধারে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ যুবক একটি টমটমে করে পানছড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় পৌঁছালে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হামলার পর বাকি দুই যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
এদিকে, ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দাবি করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। পাশাপাশি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইউপিডিএফের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে বাধ্য করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই দলের পাঁচ সদস্য দলত্যাগের চেষ্টা করলে মধুমঙ্গল পাড়ায় তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে তিনজন নিহত হন এবং অপর দুইজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ইউপিডিএফের এ দাবির বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) গ্রুপের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিহত ও নিখোঁজদের পরিচয় এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।