মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে বড় সংস্কার
- ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৯
বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মালয়েশিয়া সরকার। দীর্ঘদিনের ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিক অনুমোদন পদ্ধতি বাতিল করে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক আবেদন, যাচাই ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
রোববার (৬ জুলাই) রাজধানী কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আরামানান।
তিনি বলেন, এখন থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদনের জন্য নিয়োগকর্তাদের মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সরাসরি আবেদন বা তদবির করতে হবে না। সব আবেদন ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FWCMS)-এর মাধ্যমে অনলাইনে জমা, যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও দীর্ঘসূত্রিতাও কমবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার ওয়ান স্টপ সেন্টার (OSC) এখন থেকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অনলাইনে আবেদন যাচাই-বাছাই করে তাদের সুপারিশ OSC-তে পাঠাবে। এরপর প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী কোটা অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগে ম্যানুয়ালি জমা দেওয়া ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠানের ২২ হাজার ৪৭৬টি কোটা আবেদনও নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিষ্পত্তি করা হবে।
এছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তাদের স্থানীয় শ্রমবাজার থেকে কর্মী নিয়োগের চেষ্টা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ জন্য MyFutureJobs প্ল্যাটফর্মে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং Employment Act 1955-এর Section 60K অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলে তবেই বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা যাবে।
তবে বিদেশি কর্মীদের এমপ্লয়মেন্ট পাস ও ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর চূড়ান্ত দায়িত্ব আগের মতোই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।