ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচে জিতবে কে, জানালো সুপারকিম্পউটার
- ১০ জুলাই ২০২৬, ২৩:১৫
ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লড়াইকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে জমজমাট ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছে অপটার সুপার কম্পিউটার। সম্ভাবনার হিসাবে অবশ্য সামান্য এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।
অপটার ২৫ হাজার ম্যাচ-সিমুলেশনের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো উপায়ে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ইংল্যান্ডের ৬২.৩ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৭ শতাংশ। কোয়ার্টার-ফাইনাল শুরুর আগে ফ্রান্স (৭৩.৯ শতাংশ), স্পেন (৬৯.৮ শতাংশ) ও আর্জেন্টিনা (৬৯.৪ শতাংশ) ছিল সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দল।
ইতিহাস গড়ার সামনে নরওয়ে
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলছে নরওয়ে। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখানো দলটি ইতোমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় পেয়েছে নরওয়ে। একমাত্র হারটি এসেছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে কোচ স্টালে সোলবাকেন শুরুর একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের সুফল মিলেছে নকআউট পর্বে। যেখানে আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে দলটি।
আক্রমণভাগেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে নরওয়ে। পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করার পাশাপাশি ৯ গোলও হজম করেছে তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনালে ওঠার পথে অন্তত ১০ গোল করা এবং ১০ গোল হজমের নজির রয়েছে কেবল ১৯৫৪ সালের পশ্চিম জার্মানির।
অভিজ্ঞতায় এগিয়ে ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পথচলা ছিল উত্থান-পতনে ভরা। তবে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
বিশ্বকাপে এটি ইংল্যান্ডের ১১তম কোয়ার্টার-ফাইনাল। যা ব্রাজিল ও জার্মানির পর তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে শেষ আটের রেকর্ড খুব সুখকর নয়। আগের ১০টি কোয়ার্টার-ফাইনালের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জিতেছে তারা। বাকি সাত ম্যাচেই একাধিক গোল হজম করে বিদায় নিতে হয়েছে।
হালান্ড বনাম কেইন
নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করা এই স্ট্রাইকার মাত্র ১৮টি শট থেকে সাত গোল করেছেন। ২০১৪ সালে হামেস রদ্রিগেজের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই টানা গোল করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। ইউরোপীয়দের মধ্যে সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েছিলেন জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার, ১৯৭০ সালে।
হালান্ডের সাত গোলের মধ্যে চারটিই ছিল ম্যাচজয়ী। বিশ্বকাপের এক আসরে এর চেয়ে বেশি ম্যাচজয়ী গোল করেছেন শুধু পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪) ও ইতালির সালভাতোরে স্কিলাচি (১৯৯০)। দুজনেরই পাঁচটি করে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন হালান্ড। নরওয়ের জার্সিতে ৫৪ ম্যাচে তার গোল ৬২টি। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করে এই সময়ে তিনি করেছেন ২৭ গোল।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণের মূল ভরসা হ্যারি কেইন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে হালান্ডের ঠিক পেছনেই আছেন তিনি। গোল করেছেন ছয়টি। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ১২ ম্যাচে কেইনের গোল ১১টি।
মিডফিল্ডে জুড বেলিংহ্যামও দারুণ ফর্মে আছেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোলসহ এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা চার, যা ইংল্যান্ডের কোনো মিডফিল্ডারের এক আসরে সর্বোচ্চ।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড
দুই দলের মুখোমুখি ১২ ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে আটটিতে। নরওয়ে মাত্র দুটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ চার দেখায় নরওয়ে ইংল্যান্ডের জালে কোনো গোলই করতে পারেনি।
তবে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক রেকর্ড ভালো নয়। ইউরোপের দলের বিপক্ষে শেষ ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে তারা। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ইংলিশরা।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এখনো জয় পায়নি নরওয়ে। ছয় ম্যাচে তাদের রেকর্ড দুটি ড্র ও চার হার। নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে আগের দুটি ম্যাচেও পরাজিত হয়েছে নরওয়েজিয়ানরা।