হরমুজের পর আরেক জলপথ
- ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৫
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো বা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালায় তাহলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ বন্ধ করতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া উচ্চপর্যায়ের অন্তত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা এবং এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি আঞ্চলিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তেহরানের নীতিনির্ধারণী মহলে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরে হুথি নেতৃত্বের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে নির্দেশটি কীভাবে পাঠানো হয়েছে বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পরই এটি পাঠানো হয়েছিল কি না সে বিষয়ে সূত্রগুলো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
বাব আল-মান্দেবে মোতায়েন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র
হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের হোদাইদাহ অঞ্চল, এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু ইরানের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে গোষ্ঠীটি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পর যদি বাব আল-মান্দেবেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল পরিবহন পথই অচল হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
হুথিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের সময় ও কৌশল নির্ধারণ করবেন।
সৌদি-হুথি উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি
এদিকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটির বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এর ফলে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা সৌদি আরব ও হুথিদের যুদ্ধবিরতিও ভেঙে গেছে।
ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক তরবজর্ন সলভড বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে লোহিত সাগরের বন্দর ও জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেললে অঞ্চলটির বিকল্প তেল রপ্তানি পথও কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের এ ধরনের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি আরব। তাদের মতে, লোহিত সাগর ইস্যুতে হুথিরা এখন সরাসরি তেহরানের নির্দেশনা অনুসরণ করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় লোহিত সাগরও সংঘাতের আওতায় এলে সেই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।