উত্তরাঞ্চলের জন্য দুঃসংবাদ

বন্যা

দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নীলফামারী, কুড়িগ্রামসহ সাতটি জেলায় আগামী সপ্তাহে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, আগামী তিন দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং সংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ৫৯টি উপজেলার ১২ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন।

বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও অবকাঠামো খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারে আমনের বীজতলা ও শাকসবজির খেত তলিয়ে যায়। বাঁশখালী, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষীরা। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বহু গ্রামীণ সড়ক, বেইলি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।