বাজারে আবারও চাপে ডলার, বাড়ছে বিনিময় হার

ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আবারও চাপ বেড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম ৫০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিভিন্ন আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডলারের ওপর সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

দেশের শিল্পের কাঁচামাল, জ্বালানি এবং উৎপাদন খাতের অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিনির্ভর। ফলে ডলারের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। প্রায় দেড় বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় প্রতিদিনই ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অর্থবছরের শেষ সময়ে বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, জ্বালানি আমদানির বিল এবং অন্যান্য সরকারি পরিশোধের কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। তবে এটিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “এই মুহূর্তে কিছু সরকারি পেমেন্টের চাপ ছিল। এ কারণে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো থাকায় শিগগিরই বাজারে চাপ কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে আসা ডলারের তুলনায় প্রায় ৩০ কোটি ডলার বেশি ব্যয় হয়েছিল। তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সেই চিত্র বদলেছে। এ সময়ে দেশে এসেছে প্রায় ৭১০ কোটি ডলার, বিপরীতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪১০ কোটি ডলার। ফলে অর্থবছর শেষে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ইতিবাচক ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।

তবুও বিশ্লেষকদের মতে, আমদানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং প্রত্যাশিত হারে রপ্তানি আয় না বাড়ায় ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, “ডলারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, জোগানের প্রবৃদ্ধি সেই হারে বাড়ছে না। বিশেষ করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতিই বর্তমান চাপের অন্যতম কারণ।”

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগে দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের বিনিময় হার প্রায় ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। তবে করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ডলারের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং পরবর্তী সময়ে তা ১২২ টাকার বেশি ছাড়িয়ে যায়।