সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
- ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৩
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি জানান, ইমনের সঙ্গে আটক পাঁচজনই অস্ত্রধারী শুটার হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলায় এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলায় ইমনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া গত দুই বছরে চট্টগ্রামে একাধিক চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তার নাম সামনে আসে।
পুলিশের দাবি, ইমন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ এবং তার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। বাকলিয়ার জোড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাড়া করা এবং সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ের দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ বিদেশে পালিয়ে থাকার পর চট্টগ্রামে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্ব বর্তমানে দুজনের হাতে রয়েছে। তাদের একজন ইমন, অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, হত্যা ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হতো। অভিযোগ থাকলেও এতদিন তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।