বিশ্বকাপ আয়োজক থেকে মরক্কোকে বাদ দেওয়ার দাবি
- ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪২
২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক দেশ মরক্কোকে আয়োজকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে স্পেনে। দেশটির ক্ষমতাসীন বামপন্থী জোটের একাধিক সংসদ সদস্য এ দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত হতে যাওয়া ২৪তম আসরের মূল আয়োজক হিসেবে রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। পাশাপাশি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের স্মরণে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সদর দপ্তর প্যারাগুয়েতে হওয়ায় দেশটিও একটি ম্যাচ আয়োজন করবে।
সম্প্রতি স্পেনের পার্লামেন্টে মরক্কোর বিশ্বকাপ আয়োজনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্ষমতাসীন জোটের তিনটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন ডেপুটি। তারা স্পেন সরকারকে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোকে যৌথ আয়োজকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে পর্তুগালের ক্ষমতাসীন লিবরা পার্টিও। দলটি এ বিষয়ে পর্তুগাল সরকার ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে চিঠি দিয়েছে।
মরক্কোকে বাদ দেওয়ার দাবির পেছনে মূলত দেশটির অভিবাসন পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। সম্প্রতি স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতা সীমান্তে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশের চেষ্টা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।
স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মানব পাচারকারীরা গুজব ছড়ায় যে, স্পেনে পৌঁছাতে পারলেই সেখানে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যাবে। এই গুজবে বিশ্বাস করে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মরক্কোর নাগরিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে সেউতা সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে অধিকাংশ অভিবাসী মরক্কোয় ফিরে গেলেও এ ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। স্পেনের বামপন্থী জোটের নেতাদের যুক্তি, একটি দেশের আর্থসামাজিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি কতটা সংকটপূর্ণ হলে মানুষ এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করে, সেটি মরক্কোর বিশ্বকাপ আয়োজনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ।
তবে মরক্কোকে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।