বিদ্যুৎ বিল কমাতে যা করবেন

বিদ্যুৎ

প্রতিমাসে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ বিল আসায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে অতিরিক্ত বিলের পেছনে সবসময় বড় কোনো কারণ থাকে না। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অসচেতন অভ্যাসের কারণেও বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে। নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র না কিনেও কয়েকটি অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব।

অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র চালু রাখবেন না

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান, লাইট বা টেলিভিশন বন্ধ না করা বিদ্যুৎ অপচয়ের অন্যতম কারণ। একইভাবে প্রয়োজন না থাকলেও চার্জারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র প্লাগে সংযুক্ত রাখা উচিত নয়। ব্যবহার শেষে যন্ত্র বন্ধ করার পাশাপাশি সম্ভব হলে সুইচ থেকেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ভালো।

এসি চালান উপযুক্ত তাপমাত্রায়

অনেকেই দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার আশায় এসির তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করেন। এতে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যেতে পারে। সাধারণভাবে ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রেখে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি দরজা-জানালা বন্ধ রাখলে এসির কার্যকারিতাও বাড়ে।

ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

ফ্রিজের দরজা ঘন ঘন খোলা হলে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কম্প্রেসারকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া ফ্রিজের দরজা খোলা উচিত নয়। একই সঙ্গে খুব গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রেখে কিছুটা ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা ভালো।

দিনের আলো কাজে লাগান

দিনের বেলায় পর্যাপ্ত সূর্যের আলো থাকলে ঘরে কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করলে বিদ্যুতের খরচ কমানোর পাশাপাশি ঘরও স্বাভাবিকভাবে আলোকিত রাখা যায়।

স্ট্যান্ডবাই মোড এড়িয়ে চলুন

টেলিভিশন, সেট-টপ বক্স, কম্পিউটার কিংবা গেমিং কনসোল পুরোপুরি বন্ধ না করে স্ট্যান্ডবাই মোডে রাখলেও কিছুটা বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে এসব যন্ত্র সুইচ থেকে বন্ধ করে রাখা ভালো।

এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন

পুরোনো ধরনের বাতির পরিবর্তে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ কমানো যায়। একই সঙ্গে এলইডি বাল্ব সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী এবং কম বিদ্যুতে ভালো আলো দিতে সক্ষম।

ওয়াশিং মেশিন ও আয়রনের ব্যবহার পরিকল্পিত করুন

অল্প কাপড়ের জন্য বারবার ওয়াশিং মেশিন চালানোর পরিবর্তে একসঙ্গে বেশি কাপড় ধোয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক হতে পারে। একইভাবে প্রতিদিন অল্প কাপড় ইস্ত্রি না করে একসঙ্গে কয়েক দিনের কাপড় আয়রন করলে যন্ত্রটি বারবার গরম করার প্রয়োজন কমে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করুন

এসি, ফ্রিজ ও পানির পাম্পের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করলে সেগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে কম বিদ্যুতে কার্যকরভাবে ঘর ঠান্ডা রাখা সম্ভব।

সচেতনতাই হতে পারে বড় সাশ্রয়ের উপায়

বিদ্যুৎ বিল কমাতে সবসময় নতুন প্রযুক্তি বা দামি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। অপ্রয়োজনীয় সুইচ বন্ধ রাখা, স্ট্যান্ডবাই মোড এড়িয়ে চলা, প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার এবং এসির তাপমাত্রা যথাযথভাবে নির্ধারণের মতো ছোট ছোট অভ্যাসই বিদ্যুতের অপচয় কমাতে পারে। এতে মাস শেষে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদ্যুতের ব্যবহারও আরও দক্ষ করা সম্ভব।