বিদেশ ভ্রমণ এখন টাকায়!
- ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৮
বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কিনতে এখন থেকে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ঝামেলা কমবে। ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) নিবন্ধিত সদস্য ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে বাংলাদেশি টাকায় অর্থ নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ বিক্রি করতে পারবেন। পরে সংগৃহীত অর্থের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীদের কাছে পাঠানো যাবে।
আজ রবিবার (৯ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টোয়াবের যেসব সদস্য ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল অথবা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির বৈধ চুক্তি বা ব্যবসায়িক সমঝোতা রয়েছে, তারা এ সুবিধা পাবেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক বিদেশে আবাসন, পরিবহনসহ প্রকৃত ভ্রমণসেবার মূল্য পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবে।
তবে এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বাইরে একজন ভ্রমণকারীর জন্য প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে সংরক্ষণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটরকে।
পাশাপাশি ভ্রমণকারীর কাছ থেকে লিখিত ঘোষণা নিতে হবে যে, তিনি অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে নির্ধারিত বার্ষিক সীমা অতিক্রম করেননি।
তবে ৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের প্যাকেজ কেনার ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্যাকেজের মূল্য আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। এসব লেনদেনে এডি ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবা দিতে পারবে।
বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ইনভয়েস, চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি, ভ্রমণকারীদের তালিকা এবং টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করতে হবে এডি ব্যাংককে। বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ-সংক্রান্ত বিবরণী জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, টাকায় বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনার সুযোগ চালু হওয়ায় গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। পাশাপাশি এ উদ্যোগ দেশের আউটবাউন্ড ট্যুরিজম খাতের বিকাশ এবং ট্যুর অপারেটিং ব্যবসাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও গতিশীল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।