আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০২
গত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এ বিষয়ে জনগণই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও জানান মন্ত্রী।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’এর প্রতিবেদনসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কাজ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগও জনগণের সামনে এসেছে। গত ১৮০ দিনে সরকার যেসব উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে, সেগুলো জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও গ্যাস সংকট তৈরি হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রায় এক মাস মূল্য সমন্বয় স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে সহনীয় পর্যায়ে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এ সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের পর সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যমান সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের সমস্যা মোকাবিলায় একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে বর্তমানে জরিপ চলছে বলে জানান তিনি।
আমদানি-নির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরীণ, অফশোর ও অনশোর এলাকায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্যাস সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।
বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
খাদ্য মজুদেও অগ্রগতি
জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সঠিক নীতির কারণে দেশে খাদ্যের একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অর্জন নিয়ে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।