প্রধানমন্ত্রীতে মুগ্ধ তারা
- ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৯
রাষ্ট্রীয় সফরে সাধারণত কঠোর নিরাপত্তা, প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই চলাফেরা করেন সরকারপ্রধান। তবে সেই প্রচলিত দৃশ্যের বাইরে গিয়ে সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে চড়ে কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও কিশোরগঞ্জে পৌঁছে ব্যতিক্রমী নজির তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এমন সাদামাটা চলাফেরা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
সফরের পথে কোথাও বাস থামিয়ে তরুণদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী, আবার কোথাও স্কুলশিক্ষার্থীদের হাতে বল তুলে দিয়েছেন। তাঁর এমন স্বাভাবিক ও আন্তরিক আচরণের ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
অনেকের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার এমন দৃশ্য বিরল। কারও কারও ভাষ্য, এটি শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সরলতার প্রকাশ নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কমানোরও একটি প্রতীকী বার্তা।
রোববার জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কটিয়াদীতে যান প্রধানমন্ত্রী। সফরের পথে সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে তাঁর যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, পদ-পদবির আনুষ্ঠানিকতা পাশে রেখে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ানোর দৃশ্যটি ব্যতিক্রমী। প্রধানমন্ত্রীর এমন সরলতা জেলাবাসীর নজর কেড়েছে।
শিক্ষক ও সাংবাদিক মাসুম পাঠান বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে করে কোনো এলাকায় যেতে দেখা তাঁর কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতো লেগেছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন সাধারণভাবে চলাফেরা মানুষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কমানোর একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। কটিয়াদীর মানুষের কাছে এটি সফরের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনকে ঘিরে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে দিনটিকে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার জন্য ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাটে মৎস্য দিবস উপলক্ষে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি একপর্যায়ে বড় জনসমাগমে পরিণত হয়। সেখানে দুই উপজেলার মানুষের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সফরকালে কটিয়াদীতে একটি হ্যাচারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং মৎস্যচাষিদের মধ্যে স্বর্ণপদক বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্য তাঁর পোস্টে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদীতে পৌঁছানোর ঘটনাটি সফরে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের বাইরে তাঁর এমন স্বাভাবিক চলাফেরা স্থানীয়দের কাছে দিনটির অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।