বিদায়ে কাঁদলেন আবেগাপ্লুত ফখরুল, কাঁদালেন
- ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৭
বিদায় সবসময় এমনই হয়। যেমনটা হয়েছে মির্জা ফখরুলের বেলায়ও। জাতীয় সংসন ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দলের সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। এ সময় আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে ভোটও চান তিনি।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে শুরু হওয়া এ বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিদায়ী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জীবন দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং দল তাঁর ওপর যে সম্মান ও দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা রক্ষা করবেন। বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনের সময় দলীয় সহকর্মীদের এই আবহের অভাব অনুভব করবেন বলেও জানান তিনি। পরে সবার কাছে দোয়া চান বিএনপির এই নেতা।
ফখরুলকে বিজয়ী করতে এমপিদের নির্দেশ তারেকের
সভায় মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও দলের কঠিন সময়ে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে ফখরুল অসীম সাহসিকতার সঙ্গে দলের হাল ধরেছিলেন। এ সময় তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী করতে সব সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এমপিদের সতর্ক করলেন তারেক
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হওয়ায় এটি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অনেক এমপির সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তা দ্রুত নিরসনের নির্দেশ দেন তারেক রহমান। দল যাঁকে সমর্থন দেবে, তাঁর বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য যেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করেন, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাঁদের বিজয়ী করার ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
রাষ্ট্রপতি হলে শূন্য হবে ফখরুলের আসন
এর আগে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নিয়মাবলি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত অবহিত করেন।
চিফ হুইপ জানান, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও নির্বাচনে ভোট দেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে আইন অনুযায়ী তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে।
বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের অন্যান্য সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।