নতুন আমদানি নীতি চালু
- ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২১
ঋণপত্র বা এলসির পাশাপাশি এখন থেকে কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা। ব্যবসা সহজীকরণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ জারি করেছে সরকার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।
নতুন নীতিতে এলসি ছাড়া সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্টের মাধ্যমে আমদানির ক্ষেত্রে আগের নির্ধারিত মূল্যসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০২১-২০২৪ সালের আমদানি নীতিতে এ ধরনের আমদানির সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন পণ্য ও খাতের জন্য নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ও শর্ত ছিল।
নতুন নীতির আওতায় ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।
নতুন আমদানি নীতিতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও পুনঃরপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের নীতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বন্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকলেও নতুন আদেশে কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউসের বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচর্চার সঙ্গে আমদানি ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং শিল্পের কাঁচামালের সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১-২০২৪ সালের আমদানি নীতির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হলেও নতুন নীতি জারি না হওয়া পর্যন্ত আগের নীতিই কার্যকর ছিল। নতুন আদেশের মাধ্যমে আমদানি ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হলো।