নেপালে পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক প্রাণহানি

নেপাল

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিকসহ অন্তত ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।

বুধবার (২৭ আগস্ট) ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলের রসুয়া জেলায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। ঘটনার পর নেপাল পর্যটন বোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন, একজন অস্ট্রেলিয়ান ও একজন ডাচ নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১১১ জন বিদেশির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় ভূমিকম্প হয়। এরপর ভূকম্পনের কারণে সৃষ্ট হিমবাহ ধস থেকেই ভয়াবহ এই পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগে নেপালের পাশাপাশি সীমান্তের চীনা অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য রয়েছেন। স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পাহাড়ি ঢলে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়েছে বিভিন্ন অবকাঠামো, সড়ক ও সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থাও।

নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।