কৃতির অন্তর্বাস পরা সেই বিজ্ঞাপন কোথায়?
- ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৫
বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননকে নিয়ে রাখিবন্ধনের একটি গয়নার বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্কের পর সেটি সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিয়েছে গয়না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিভা। বিজ্ঞাপনটিতে কৃতির পোশাক এবং একটি পোষা কুকুরকে রাখি পরানোর দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর। এতে কৃতিকে তুলনামূলক খোলামেলা পোশাকে রাখিবন্ধন উদযাপন করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশ আপত্তি জানায়। বিজেপির সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতও কৃতির সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, এমন পোশাকে কেন রাখি বাঁধা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনটিকে তিনি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বস্তিকর’ বলেও মন্তব্য করেন।
কঙ্গনার সমালোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জবাব দেন কৃতি। তিনি বলেন, উৎসবের মূল বিষয় পোশাক নয়; বরং ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের অনুভূতি ও শ্রদ্ধা। একজন নারীর পোশাকের ভিত্তিতে তাঁর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান বিচার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃতি আরও বলেন, নারীরা কী পোশাক পরবেন, সে বিষয়ে অন্যদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে পোশাকের ধরন পরিবর্তিত হলেও নারীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মানকে এখনো পোশাকের মাধ্যমে বিচার করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপনে কৃতিকে একটি পোষা কুকুরের হাতেও রাখি বাঁধতে দেখা যায়। এ নিয়েও সমালোচনা করেন অনেকে। এর ব্যাখ্যায় কৃতি বলেন, রাখিবন্ধন তাঁর কাছে সুরক্ষা ও ভালোবাসার বন্ধনের প্রতীক। তিনি ও তাঁর বোন একে অপরকে রাখি পরানোর পাশাপাশি একে অন্যের সুস্থতা, সুখ ও দীর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনা করেন। পরিবারের অংশ হিসেবে পোষা কুকুরটির প্রতিও একই ভালোবাসা ও শুভকামনা প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।
বিতর্কের মধ্যে কৃতির পাশে দাঁড়ান তাঁর বোন নূপুর শ্যাননও। কৃতির বক্তব্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি কঙ্গনাকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন, অন্য একজন নারী কী পোশাক পরবেন, তা নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন কেন। একই সঙ্গে তিনি সময়ের পরিবর্তনকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
কৃতির সমর্থনে কথা বলেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীও। তাঁর বক্তব্য, একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন সেটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নারীরা নিজেদের স্বাধীনতা প্রয়োগ করলে তাঁদের কটূক্তি না করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে কৃতির জবাব এবং বিভিন্ন মহলের সমর্থনের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিজ্ঞাপনটি সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেয় জিভা।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। বিজ্ঞাপনটি কোনো একটি অংশের মানুষের অনুভূতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে থাকলে সেটি তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞাপনটি সব মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: এনডিটিভি