আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি ২৭৩ মিলিয়ন ডলার
- ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৮
বাংলাদেশে নতুন করে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ আসছে, তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের তুলনায় ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।
আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে। বিপরীতে একই সময়ে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, নতুন ঋণ হিসেবে যত অর্থ এসেছে, তার প্রায় আড়াই গুণ চলে গেছে পুরোনো ঋণ পরিশোধে।
ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে ঋণ ছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
নতুন ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়া এবং অর্থছাড়ের গতি ধীর হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার নিট প্রবাহে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, নতুন ঋণ কম এলেও পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ কমেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছিল ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে জুলাই মাসে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের নেওয়া বড় প্রকল্পগুলোর ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ শুরুর আগে যে অবকাশকাল ছিল, তা শেষ হয়ে আসছে। ফলে পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এর বিপরীতে নতুন প্রকল্পে প্রত্যাশিত হারে অর্থছাড় না হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থপ্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।