পে স্কেল উঠছে মন্ত্রিসভায়, বেতন বাড়বে ৪ ধাপে

পে-স্কেল

মূল্যস্ফীতি ও বাজেটের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দুই অর্থবছরে চার ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সোমবার অনুমোদনের জন্য এসব সুপারিশ মন্ত্রিসভার সামনে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক চাপ সামলে নেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে এ পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিপুল পরিমাণ আমদানির কারণে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হওয়ায় সরকার ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল বেতনের ৩০ শতাংশ আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হতে পারে। এরপর আরও ৩৫ শতাংশ পরবর্তী বছরের শুরু থেকে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হচ্ছে। মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে এবং এরপর ওই অর্থবছরের জানুয়ারিতে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব থাকতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নবম পে কমিশনের প্রতিবেদন

অষ্টম পে কমিশন গঠনের প্রায় এক দশক পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন তদারকির জন্য ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে তা একবারে না দিয়ে কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হচ্ছে।