অমলিন উত্তম কুমার
- ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১১
বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে ম্লান হয় না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। উত্তম কুমার তেমনই এক কালজয়ী নাম। পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও আজও সমান জনপ্রিয় তিনি। ‘মহানায়ক’ পরিচয়ে তার তারকাখ্যাতি আরও সমৃদ্ধ হলেও, সেই পরিচয়ের আড়ালে থাকা অসাধারণ অভিনেতা উত্তম কুমারকে নতুন করে আবিষ্কারের আগ্রহ এখনো শেষ হয়নি।
পর্দায় তার স্বতন্ত্র হাসি, সংলাপ বলার অনন্য ভঙ্গি কিংবা ব্যক্তিত্বের নিজস্ব প্রকাশ—দীর্ঘ চার দশক পরও এসবের আবেদন এতটুকু কমেনি। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্ম নেওয়া অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়ই পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত ‘মহানায়ক’। কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা ও অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে তিনি বাংলা সিনেমায় নিজস্ব এক উচ্চতা তৈরি করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক জুটির কথা উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে উত্তম-সুচিত্রার নাম। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ ও ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো চলচ্চিত্র তাদের জুটিকে দর্শকের কাছে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
তবে রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি উত্তম কুমার। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের বহুমাত্রিক প্রতিভারও প্রমাণ দিয়েছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’, ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় আজও বিশেষভাবে প্রশংসিত। বিশেষ করে ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন উত্তম কুমার। সংগীতচর্চাতেও ছিল তার আগ্রহ ও সৃজনশীল উপস্থিতি। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। কিন্তু মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।
জন্মশতবর্ষে পা রাখার এই বিশেষ মুহূর্তে দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমী ও অগণিত ভক্ত গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন বাংলা সিনেমার এই অবিস্মরণীয় মহানায়ককে।