বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন ফের চালুর উদ্যোগ
- ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৫
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটের মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে। দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই এসব ট্রেনের চলাচল শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও বৈঠকে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথাও জানাবে রেলওয়ে।
এবারের আইজিআরএম বৈঠক ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে আলোচনার জন্য দুই দেশের মধ্যে বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বন্ধ থাকা তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতিই যথেষ্ট নয়। ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকে আসবে।
প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে আইজিআরএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিতের পর ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী—তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব ট্রেনের চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।