ইউনিয়ন পর্যায়েও ভ্যাট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!
- ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৬
প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ছোট দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মাসিক নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট দিতে হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা, উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এবং জেলা সদর ও জেলা পৌর শহর এলাকায় ২ হাজার টাকা হারে ভ্যাট নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ভ্যাট পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখার কথাও ভাবছে এনবিআর।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলার বাজার, বিপণিবিতান ও দোকানের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কোথায় কতটি দোকান রয়েছে, ব্যবসার ধরন কী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান কোথায়—এসব তথ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও একই ধরনের তথ্য নেওয়া হবে।
এনবিআরের সংগৃহীত একটি তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নুর নাহার প্লাজায় রয়েছে ৫২টি দোকান। এর মধ্যে চারটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) রয়েছে। রংপুর সিটির বেতপট্টি বাজারে দোকান রয়েছে ১২১টি। আর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী বাজারে রয়েছে ৫০টি দোকান।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহের পর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবে এনবিআর। এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ভ্যাটের আওতায় আনা হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের ৩ থেকে ৫ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই নির্ধারিত ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা পর্যায়ের বাজার, বিপণিবিতান ও দোকানের তালিকা ইতোমধ্যে ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে আসতে শুরু করেছে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও তথ্য সংগ্রহ চলছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর ভ্যাটের হার চূড়ান্ত করা হবে।
প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট পরিশোধ সহজ করতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কাজে আলাদা একটি অ্যাপ চালুর কথাও ভাবছে এনবিআর।
পুরোনো প্যাকেজ ভ্যাটের আদলে নতুন ব্যবস্থা
প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নতুন হলেও এর সঙ্গে প্রায় এক দশক আগের প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থার মিল রয়েছে। সে সময় শহরাঞ্চলের ছোট ব্যবসায়ীদের লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনা না করে নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভ্যাট দিতে হতো। ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার পর প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
এবার এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অনেকটা সেই আদলেই ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায়ের ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট দিতে হতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেন ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। তবে বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেন ৫০ লাখ টাকার নিচে হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়।
ভ্যাটের আওতা বাড়াতেই ন্যূনতম নির্ধারিত ভ্যাট চালুর এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। এর মাধ্যমে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও কর ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট খাত থেকে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।