লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, সমাধান করবে কে?
- ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২২
তীব্র গরমের মধ্যে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। একই সময়ে বন্ধ রয়েছে আরএনপিএলের একটি ইউনিটও। এতে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
একদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গরম বাড়ছে, অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ওই সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। চলতি মৌসুমে এটি সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। স্বাভাবিক উৎপাদনের তুলনায় এ পরিমাণ অন্তত ১ হাজার থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট কম।
চাহিদা বেড়ে গেলে নানা সংকটের মধ্যেও দেশে সাধারণত ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে দেখা গেছে।
হঠাৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, আদানির একটি ইউনিট আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। একই সময়ে আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়েছে। ফলে একযোগে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর বাইরে আগের সমস্যাগুলোও রয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনও কমে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। এক দিন আগে এই উৎপাদন ছিল ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কেন্দ্র এক দিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে শুধু ঢাকা অঞ্চলের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে অথবা কম সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর আবারও কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল।
তবে নতুন করে একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডের ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে।
এদিকে লোডশেডিং আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এর ওপর তীব্র গরম। সবমিলিয়ে ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করছে। এ সমস্যা কবে সমাধান হবে জানি না।
অপর এক বাসিন্দা বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের কথা বললেই সরকারের ভেতরে দায় এড়ানো একটা ভাব দেখা যাচ্ছে। জবাবদিহির বদলে ঔদ্ধত্য সুর দেখা যায়। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনজীবন দুর্বিসহ সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকবে। সরকারকে অতি দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করতে হবে।