আমিরাতে ভিসা বাতিলের হিড়িক
- ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০১
চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দেশটিতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আমিরাতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, ভিসা বাতিলের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রথমে জানতে চেয়েছে, কী কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, জুলাই থেকে অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইলে, কারও মোবাইলে আবার সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে ভিসা বাতিলের বার্তা যাচ্ছে। অনেকে ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ায় আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।
তাদের অনেকের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত অভিযোগ নেই। আমিরাতে ব্যবসা ও পরিবার থাকলেও হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কাও করছেন তারা।
এদিকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনায় আমিরাতের শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, এ পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
এদিকে যেসব প্রবাসীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে, তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস।