তিন মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৫ হাজার
- ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৩৩
চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ ধরনের হিসাব ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ তিন মাসে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে মোট জমা ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। মার্চ শেষে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি এবং আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে ব্যাংক হিসাবে সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি এবং আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।
তবে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও ব্যক্তি পর্যায়ে আমানত কমেছে। জুন শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যক্তি শ্রেণির হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।
মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। তখন এসব হিসাবে জমা ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭১টি, কিন্তু এসব হিসাবে আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা থাকছে।
বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অর্থ ব্যাংকে ধরে রাখছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবগুলোতে আমানতের পরিমাণ বাড়ছে।
অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাবে আমানত কমলেও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে অর্থ বাড়ায় সামগ্রিকভাবে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।
তবে ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হিসাব রয়েছে। আবার একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাবও পরিচালনা করতে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব ছিল মাত্র ৫টি। ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে ৪৭টি এবং ১৯৮০ সালে ৯৮টিতে দাঁড়ায়। ১৯৯০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি।
পরবর্তী সময়ে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। সবশেষ চলতি বছরের জুন শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে।