জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা ঢাবির
- ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৫৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ডাকসুকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স ও রেগুলেশনস অনুযায়ী, ছাত্র সংসদের যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনার অধীন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ডাকসুর পক্ষ থেকে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে, সেটি সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের অনুমোদন কিংবা আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগ এখতিয়ারবহির্ভূত।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর পক্ষ থেকে অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ পৃথক ব্যবস্থা চালু করতে পারে না।
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়টিও আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ বা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।