সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ফাঁসাতে এসে নিজেই ফেঁসে গেলেন কথিত শ্রমিক নেতা

বিআরটিএ

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয় ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন চিঠি দেওয়া, অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অভিযোগ প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের এক কথিত শ্রমিক নেতার ইন্ধনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা বিভিন্ন নামে ও বেনামে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয় এবং এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। নিজেদের শ্রমিক দলের নেতা বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি মো. নাজিম উদ্দীন জানিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে, তাদের কেউই শ্রমিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ফলে নিজেদের শ্রমিক দলের নেতা পরিচয়ে বিআরটিএর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তবে সাংবাদিকরা এসব অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ ও নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে আয়োজকদের কয়েকজন একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে পারেননি আয়োজকদের অনেকে। এমনকি সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত কয়েকটি দাবির বিষয়ে আন্দোলনকারীদের কাছেই পর্যাপ্ত তথ্য নেই—এমন চিত্রও দেখা যায়।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রশ্নে আয়োজকদের কয়েকজনকে অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়। পরে তাদের কয়েকজন সংবাদ সম্মেলনের স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সেগুলোর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থ রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথি থাকা জরুরি। অন্যথায় এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ তৈরি হতে পারে।