অপরাধ দমনে নতুন আইন, ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫১
অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুরোনো আইন দিয়ে সবসময় নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন সংশোধন করতে হবে।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের উদাহরণ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে আসামিকে গ্রেপ্তারের পরও দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সমাজের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করতে হবে।
জুয়া-মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ
বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর শুধু গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করলেই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের পেছনের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে জানতে হবে কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অনেক গুরুতর অপরাধের সঙ্গে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
অপরাধকে একটি উপসর্গ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের মূল কারণ অন্য জায়গায় থাকতে পারে। সেই কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব।
তার মতে, জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব হতে পারে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক ইউনিট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধ বাড়ায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং তথ্য বিশ্লেষণ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা পর্যায়েও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি থানা ও উপজেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায় তিনি জানিয়েছিলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
ঝুঁকিতে থাকা ক্রাইম রিপোর্টারদের সহায়তার উদ্যোগ
ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাদের সহায়তায় সরকারি বা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আওতায় কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা সরকারিভাবে চেষ্টা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলে সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
ক্রাইম রিপোর্টিংকে অনেকাংশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সাংবাদিকতায় ঝুঁকিও রয়েছে। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে।
ক্রাইম রিপোর্টারদের সনদ দেওয়ার কথা
ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য সনদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই করে দেখার কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের ভূমিকার সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ক্রাইম রিপোর্টারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্।