তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের
- ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৭
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মক্কা আল-মুকাররমাসহ সৌদি আরবের সব পবিত্র স্থানের মর্যাদার প্রতি বাংলাদেশের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এসব পবিত্র স্থান সুরক্ষায় সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতিও প্রকাশ করেছে ঢাকা।
পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সব সময় পুরোপুরি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।
এদিকে পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কথিত চেষ্টা নিয়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মক্কার দিকে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি মাঝপথেই প্রতিহত করে। এ ঘটনার পর সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় মক্কা অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে সৌদি আরবের এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করে, মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র ধর্মীয় স্থান বা স্থাপনাকে তারা কখনো লক্ষ্যবস্তু করেনি। হুথিদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নিতে রিয়াদ এ ধরনের দাবি করেছে।
এদিকে, সৌদি আরবের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। ইয়েমেন সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো মুসলিম দেশগুলোর অবস্থান—এসব বিষয়কে সৌদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরবের অবস্থান এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নিয়েও মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, মক্কা-মদিনার মতো ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার খবর বা এমন কোনো দাবিও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
এ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মিশর সফর ও দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বৈঠকের উদ্দেশ্য হিসেবে সামরিক সহযোগিতা চাওয়ার যে ধারণা সামনে এসেছে, তা নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়।
মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো ঘটনা আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি আরবের দাবি ও হুথিদের অস্বীকৃতির মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নিয়ে এখনো পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই সামনে রয়েছে।