বাংলাদেশকে প্রচ্ছন্ন হুমকি ভারতের
- ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩২
সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করবে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছি। যার অর্থ ১০১টি সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার ফলাফল আপনারা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন।”
এ ব্যাপারে আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেছিলেন দেশটির এক সাংবাদিক।
জবাবে তিনি বলেছেন, যদি বাংলাদেশ এমন কিছু করে তাহলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জয়সওয়াল।
জয়সওয়াল বলেন, “আমরাও এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে কিছু খবর দেখেছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কোনো কিছু জানানো হয়নি। অবশ্যই ভারত তার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার, কানেক্টিটিভি এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল।
ভারত লাইন অব ক্রেডিট বা ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া তাকে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তিটি আগামী ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। এর ব্যাপারে ভারতের এ কূটনীতিক বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আমাদের একটি যৌথ নদী কমিশন ব্যবস্থা আছে। এটির কাজ হলো পানি বিষয়ক সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। পানি বিষয়ে টেকনিক্যাল পর্যায়ে বৈঠক অব্যাহত আছে।”
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।