যেসব শিল্পীদের মূল্য নেই ভাবনার কাছে
- ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৩
শোবিজ অঙ্গনে প্রকাশ্যে নীতিকথা বলা আর ব্যক্তিজীবনে তার বিপরীত আচরণ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিনোদন জগতের নানা অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া উপলব্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, শুধু কথায় নয়, একজন শিল্পীর পরিচয় তাঁর কাজ ও ব্যক্তিত্বে ফুটে ওঠা উচিত।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়জগতে যুক্ত ভাবনা জানান, কর্মজীবনে তাঁকে বিভিন্ন সময় এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর। তাঁর অভিজ্ঞতায়, অনেক শিল্পী সাক্ষাৎকারে নীতি ও আদর্শের কথা বললেও ব্যক্তিজীবনে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে না।
ভাবনার ভাষায়, ‘আমি আসলে মিথ্যা বলব না। খুব ছোটবেলায় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছি। অনেকবারই শুনতে হয়েছে—“ও আচ্ছা, তুমি ড্রিংক করো না?” এসব কথা আসলে বলাও অনুচিত। তবে অনেককেই দেখা যায় ইন্টারভিউতে বড় বড় নীতিকথা বলতে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তারা একদমই সুন্দর মানুষ নন।’
নিজের জীবনের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে ভাবনা বলেন, এখন আর নিজের কথা প্রকাশ করতে তিনি দ্বিধা বোধ করেন না। মানুষের জীবন অনিশ্চিত—এই উপলব্ধি থেকেই নিজের মতামত প্রকাশ্যে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, যারা সাক্ষাৎকারে নৈতিকতার কথা বলেন, অথচ ব্যক্তিজীবনে মাদকসহ বিভিন্ন অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে জড়ান এবং সেটিকে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, তাদের শিল্পী হিসেবে তিনি মূল্যায়ন করেন না।
একজন শিল্পীর সমাজের প্রতি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ভাবনা। তাঁর মতে, শিল্পীর জীবনযাপন ও কাজের মধ্যেও সেই দায়িত্বের প্রতিফলন থাকা উচিত।
এ প্রসঙ্গে অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদের উদাহরণ টেনে ভাবনা বলেন, তাঁর কাজই তাঁর পরিচয় তৈরি করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘সৈয়দ জামিল আহমেদের মতো ব্যক্তিত্বকে দেখুন, তাঁর তো কোনো নেশা করতে হয় না! তিনি প্রতিনিয়ত এত কাজ করেন যে তাঁর কাজই তাঁর পরিচয় হয়ে কথা বলে।’
সবশেষে ভাবনা বলেন, যারা নিয়মিত নেশাসহ নানা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত, তাদের তিনি কোনোভাবেই প্রকৃত শিল্পী হিসেবে মনে করেন না।