জার্মানিতে সাড়ে ৬ লাখ দক্ষ কর্মীর পদ শূন্য, সুযোগ
- ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৬
ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ দক্ষ কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন ও শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান।
দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে আয়োজিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের এক ফায়ারসাইড চ্যাটে তিনি বলেন, পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ছয় লাখ শূন্য পদ রয়েছে জার্মানিতে।
বিদেশে ক্যারিয়ার গড়া ও ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অপরচুনিটি কার্ডে চাকরির সুযোগ
জার্মানিতে চাকরি খোঁজার অন্যতম মাধ্যম হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘চান্সেনকার্টে’। এটি ইইউ-বহির্ভূত দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ধরনের আবাসিক অনুমতিপত্র। এর মাধ্যমে আগাম চাকরির চুক্তি বা অফার লেটার ছাড়াই সর্বোচ্চ ১২ মাস জার্মানিতে থেকে চাকরি খোঁজার সুযোগ রয়েছে।
ক্লিন্ট খানের তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড নিয়ে জার্মানিতে গিয়ে শুরুতে খণ্ডকালীন কাজ করা যায়। পরে পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া গেলে এবং নিয়োগকর্তা স্পনসর করতে রাজি হলে স্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা সম্ভব।
পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, বয়স ও ভাষাগত দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনা করে অপরচুনিটি কার্ড দেওয়া হয়।
ব্লু কার্ডে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে রয়েছে ‘ইইউ ব্লু কার্ড’। প্রয়োজনীয় যোগ্যতার স্বীকৃতি এবং নির্দিষ্ট বেতনের চাকরির প্রস্তাব থাকলে এ কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ব্লু কার্ডধারীরা ২৭ মাসের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) জন্য আবেদন করতে পারেন। জার্মান ভাষায় বি১ স্তরের দক্ষতা থাকলে এ সময় কমে ২১ মাসে নেমে আসে।
বিদেশে যাওয়ার আগে লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ
বিদেশে যাওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ক্লিন্ট খান। তার পরামর্শ, শুধু বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো বিষয়ে পড়াশোনা না করে আগে ঠিক করতে হবে লক্ষ্য শুধু পড়াশোনা, নাকি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও ক্যারিয়ার গড়া।
স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্য থাকলে পড়াশোনা শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট দেশে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ ও পথ খোলা আছে কি না, তা শুরুতেই যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
জার্মানির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ রয়েছে বলে জানান ক্লিন্ট খান। তবে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের বাজেট, যোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।