প্রথম হয়েও বিসিএস গেজেট থেকে বাদ অনেকে, বিতর্ক তুঙ্গে

সরকার

৪৯তম বিশেষ বিসিএসে (বিসিএস) সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। তবে চূড়ান্ত গেজেটে প্রথম স্থান অধিকারীসহ ৫৭ জনের নাম না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। গেজেট থেকে বাদ পড়াদের বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। এ ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে ডাকসু।

ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়া প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি লেখেন, একজন নাগরিকের যোগ্যতা, পরীক্ষার ফলাফল ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার বাইরে রাজনৈতিক পরিচয় যদি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জুলাইয়ের সামাজিক ঐকমত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

হাসনাত আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কারও চাকরি বাতিল করা হলে তা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে প্রশ্নের মুখে পড়বে।

সরকারকে সতর্ক করলেন সাদিক কায়েম

একই দিন রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয়করণের পথে হাঁটতে গিয়ে বিএনপি সরকার আগের সরকারের মতো আচরণ করছে।

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের গেজেট প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম লেখেন, বিভিন্ন বিষয়ে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকারীসহ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেককে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের অনেকে নিয়োগের সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন সাদিক। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় সমালোচনার মুখে বাদ পড়া অনেকের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল।

ডাকসুর বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে ৫৭ জনকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ডাকসু।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঘোষণানুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তারা।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ চূড়ান্ত

এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন বিষয়ে ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। বাকি ১৫টি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় কাউকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ৫৭ জনকে বাদ দিয়ে ৬১১ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করে সরকার।

তবে বাদ পড়া প্রার্থীদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।