সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
- ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৫
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে পাথর মেরে নৃশংসভাবে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মহিনকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান যুবাইরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত সোমবার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ ও রুল জারি করেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশ্যে আসে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা শাজিয়া শারমিন বলেন, ‘মহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকার ভিত্তিতে হাইকোর্ট তাকে সোহাগ হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।’
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামিনের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করবে রাষ্ট্রপক্ষ।’
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে রজনী ঘোষ লেনে ৩৯ বছর বয়সী সোহাগকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে বারবার আঘাত করে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। হত্যার পর তার বুকের উপর চড়ে নৃত্য করে তারা।
ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। আধুনিক যুগে এসে এমন নিষ্ঠুর ও বর্বর হত্যাকাণ্ডে শিহরিত হয়ে ওঠে গোটা দেশ। তারা উভয়ই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। তবে সে সময় সাবেক আইজিপি বলেছিলেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও ঘটনার চাঁদাবাজি নিয়ে নয়, বরং ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব।
পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
চলতি বছরের ১২ জুলাই এ মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।
জামিন আবেদনের শুনানিতে মহিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামিকে জামিন দেওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা। এমন নৃশংস হত্যা, যার ভিডিও আছে, এর পরও কেমনে প্রধান আসামিকে জামিন দেওয়া হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।