হুথিদের দমনে সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান
- ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৩
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে ইরানের মদদপুষ্ট ইয়েমেনর হুথি গোষ্ঠীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে জোটের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলা এবং ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা প্রস্তুত করে সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে।
তবে কতসংখ্যক সেনা বা কী ধরনের সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। মোতায়েনের সময়ও নির্দিষ্ট করা হয়নি। তিন দেশের জাতীয় আইন ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলার নিন্দা জানানো হয়। সৌদি আরবের এসব হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সক্ষমতারও প্রশংসা করে তুরস্ক ও পাকিস্তান।
তিন দেশ বলেছে, জোটের যেকোনো সদস্যের নিরাপত্তা তাদের সম্মিলিত নিরাপত্তার অংশ। মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার ক্ষমতাও জোরদার হবে।
বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবকে কী ধরনের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া যায় এবং ইয়েমেন পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরব পরিস্থিতি সমাধানে ‘গঠনমূলক’ অবস্থান নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে মক্কা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিন বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় তা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।