শেষ ভাষণে কী বলেছিলেন নানা পাটেকর

নানা

জীবনের শেষ ভাষণে যেন নিজের বিদায়ের কথাই বলে গিয়েছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর। মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে, গোয়ার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামীকাল আমি থাকব কি না জানি না।’

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুর পর সেই কথাই এখন নতুন করে নাড়া দিচ্ছে ভক্তদের।

পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত অভিনেতা বিশ্বনাথ ‘নানা’ পাটেকর ৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাওলায় তাজ সিদাদে দে গোয়া হোটেলে আয়োজিত সাম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেটিই হয়ে ওঠে তার শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি।

অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য রাজশ্রী এ. খান্ডেপারকরকে স্টেট প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার সঙ্গে নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সাদা কুর্তা ও সাদা গামছা পরা নানা পাটেকর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরকে স্মরণ করেন এবং তার রাজনৈতিক কর্মকৌশল ও কাজের ধরন নিয়ে প্রশংসা করেন।

 ‘আমি আগামীকাল থাকব কি না জানি না’

অনুষ্ঠানে জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়েও কথা বলেন নানা পাটেকর। মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে বলা তার সেই কথাগুলো এখন যেন ভক্তদের কাছে এক অদ্ভুত স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মারাঠিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে। আমি জানি না আগামীকাল আমি এখানে থাকব কি না।’

এরপর তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের জীবন একদিন না একদিন সেই জায়গায় পৌঁছাবে। তবে তার আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করা দরকার—‘আমি কি সত্যিই যা করতে চাই, তা করতে পারছি?’’

সেদিন উপস্থিত কেউ হয়তো ভাবেননি, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কথাগুলো এতটা বাস্তব হয়ে উঠবে।

বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের গোয়ার বাসভবনে গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন নানা পাটেকর। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রাণপণে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে টানা সিপিআর দেওয়া হলেও নানা পাটেকরকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চিকিৎসক জানান, ঘটনাটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।

মৃত্যুর আগে নানা পাটেকরকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ও রোমিও’ সিনেমায়। ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন শাহিদ কাপুর, তৃপ্তি দিমরি, অবিনাশ তিওয়ারি ও দিশা পাটানি।
সূত্র: এনিডিটিভি