চাপে মোদি সরকার, এবার আন্দোলনে সেই ইউটিউবার

ভারত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। কংগ্রেসের পর এবার সরাসরি আন্দোলনে নেমেছেন দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। সঙ্গে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকে।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ভোটার তালিকা নিয়ে আয়োজিত ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এ তারা যোগ দেন। এখন তারা ‘চপ্পল বিক্ষোভ’ বা জুতা বিক্ষোভে যোগ দেবেন।

পিপলস ট্রাইব্যুনালে অভিজিৎ দ্বীপকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘গণতন্ত্রকে হত্যা এবং ভোট চুরি’ করেছেন। এর প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।

অপরদিকে ধ্রুব রাঠী মোদি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেরে কথা বলেন। তিনি ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, আবার কিছু জায়গায় নাম যোগ করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রাঠী বলেন, “আমি বিজেপির ভোটারদেরও বলতে চাই: ভোট হলো একটি অধিকার। বিজেপির সমর্থকরা ভোট চুরির অভিযোগটি নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু আমার তিনটি দাবি ও প্রশ্ন আছে।”

“এক, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের আগে কীভাবে ৭০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেলো। নির্বাচনের ঠিক পরপর কীভাবে এগুলো আবার ফিরে এসেছে। দুই, বিহারে কী হলো? সেখানে ৪০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একটি কথাও বলেননি, যতক্ষণ সুপ্রিম কোর্ট ওই ভোটারদের নাম প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিন, উত্তরপ্রদেশে ১৪ লাখ মানুষ ভোটার তালিকায় হঠাৎ যুক্ত হলো। এসব মানুষ কারা? অপরদিকে গোয়ায় ইআরও ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করতে চাইলেও, নির্বাচন কমিশন কেন যুক্ত করতে দেয়নি?”

প্রসঙ্গত, ধ্রুব রাঠী ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউটিউবারদের মধ্যে অন্যতম। রাজনীতি, সামাজিক, শিক্ষা, বিজ্ঞান, সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও নির্মাণ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে অনেক রাজ্যে তার ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখিয়েছিল বিরোধী দল। কথিত আছে, তার ভিডিওর কারণেই নরেন্দ্র মোদি সরকার অনেকগুলো আসন কম পেয়েছিল এবং রাহুল গান্ধী বিরোধী দল হওয়ার মতো আসন পেয়েছিল।

সূত্র: দ্য হিন্দু