যুক্তরাষ্ট্রের সুরে পরিবর্তন ভালো লক্ষণ: ইরান
- ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:২৬
যুদ্ধের অবসান এবং কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রচেষ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বক্তব্যের সুরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পেয়েছে ইরান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি বার্তায় ওয়াশিংটনের অবস্থানের এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি। তিনি এ পরিবর্তনকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরানের বিজয় সুসংহত হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক যোগাযোগের এই উদ্যোগের মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ফলে যুদ্ধের অবসানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
গত বুধবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়িকে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। আলোচনার পথ পুনরায় চালু করা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আরও হামলা এড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো বার্তাটি পড়েছেন, তবে এখনো কোনো জবাব দেননি। তিনি বলেন, ‘তাদের বক্তব্যের সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের এই পরিবর্তনকে ‘একটি ভালো লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেন রেজায়ি। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের অবস্থানের এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে ইরান নিজেদের বিজয় সুসংহত করেছে।
রেজায়ির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কাতারের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। তবে এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার নিশ্চিত করেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাটি পেয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত যোগাযোগের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের পেছনে কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘ভ্যান্সের বার্তা পাঠানোর পেছনে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য যদি মতবিরোধ ও বিভেদ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের আগের ভুলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া আরেকটি ভুল।’
তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিবর্তন কূটনৈতিক আলোচনার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে নতুন করে হামলার হুমকি এবং দুই দেশের মধ্যে অব্যাহত অবিশ্বাসের কারণে আলোচনা কতটা এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর