শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা
ডিসেম্বরের মহড়ার নিশানায় পোষাক খাত
- মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
- ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:০৫
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির প্রস্তুতির নিশানা হয়ে উঠেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এসব সূত্রের দাবি, ডিসেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে নভেম্বর থেকেই শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যস্ত রাখা, সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং প্রশাসনের মনোবল দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ সদর দফতরের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পোষাক খাতকে নিশানা করে আন্দোলনের মহড়া দিচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। সেজন্য ডিসেম্বর আসার একমাস আগেই বেতন বৃদ্ধির নামে চলমান আন্দোলনের নামে শিল্পাঞ্চলকে অস্থির করে তুলে সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে কাবু করার কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চলে ধারাবাহিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে একদিকে রপ্তানিমুখী উৎপাদন ব্যাহত হবে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দীর্ঘ সময় শিল্পাঞ্চলে ব্যস্ত থাকতে হবে। এতে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অন্যান্য এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার টার্গেট সামনে রেখে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান অসন্তোষের মধ্যে একের পর এক কারখানায় হামলা, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও উৎপাদন বন্ধের ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবির আড়ালে রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক নেতাদের মধ্যেও ইতোমধ্যেই ভিন্নমত সৃষ্টি হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও এর ধরণ এবং ব্যাপ্তি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন খোদ শ্রমিক নেতারাই। তারা বলছেন, এটা যতটা না দাবি দাওয়ার সাথে যুক্ত কিন্তু আন্দোলনকারীদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। যদিও কেউই আওয়ামী লীগ কিংবা ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাথে এ আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কিনা সে ব্যাপারে কিছুই স্পষ্ট করে বলেন নি।
এমতাবস্তায় ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে শিল্পাঞ্চলকে অস্থির করে তোলার পরিকল্পনায় উদ্বেগ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা। এরইমধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের জেরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ৬৯০ কারখানায়। মূলত বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গতকাল বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৬৯০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৮২টি, সাভার, আশুলিয়া ও জিরাবো এলাকায় ২২৩টি, মিরপুরে ৬৫টি এবং নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২০টি কারখানা রয়েছে। এর আগের দিন ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়।
কারখানার মালিকদের অনেকের অভিযোগ, শ্রমিকদের একটি অংশকে বাইরের লোকজন প্ররোচিত করছেন। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের চাপ দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।
যমুনা অ্যাপারেলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সোলায়মান কবির বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের একটি অংশ স্বেচ্ছায় নয়, বরং বাইরের লোকজনের চাপ বা প্ররোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এতে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেছেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। তবে আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতারও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কিছু বহিরাগত ব্যক্তি কারখানায় ঢুকে জোর করে ছুটি ঘোষণা করানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি শ্রমিকদের সতর্ক করে বলেছেন, কারও উসকানিতে এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স সলিডারিটির সভাপতি তাসলিমা আক্তারও আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের উসকানির অভিযোগ করেছেন। তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির যৌক্তিকতা অস্বীকার করেননি তিনি।
ফতুল্লা অ্যাপারেলসের পরিচালক কুদরত-ই-খুদা মারুফ বলেন, নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগকে তারা সমর্থন করেন। তবে আইনগত প্রক্রিয়া চলার সময় ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও বারবার কারখানা বন্ধ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রস্তাব শুনে মজুরি বোর্ডের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহিরাগতদের অর্থের উৎস কোথায় এবং কারা তাঁদের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শিল্পমালিকদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে।
উল্লেখ্য, এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক থেকে। জিডিপিতেও এ খাতের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ।
এমতাবস্থায় বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমের রপ্তানি আদেশ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কারখানা বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এইচঅ্যান্ডএম, জারা ও ওয়ালমার্টের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে শ্রমিকদের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েও বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব। তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিক অসন্তোষ মজুরি বৃদ্ধির চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, এতে সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা ও ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই ডিসেম্বর ঘিরে সরকারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত উদ্বেগের মধ্যে পোশাকশিল্প এখন বড় পরীক্ষার মুখে। একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও শিল্পাঞ্চলে নাশকতার চেষ্টা থাকলে তা প্রতিরোধ করা সরকারের জন্য জরুরি বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।
অপরদিকে গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বর সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, এমন বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিকে ব্যবহার করে এই তৎপরতা চালানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকার রাজনৈতিকভাবেই এসব অপচেষ্টা মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে কারখানা চালু রাখা, মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
পরদিন ২ নভেম্বর সচিবালয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও সরাসরি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কিছু শিল্পমালিক, যাঁদের কেউ সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তাঁরা শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এসব শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে এবং বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সমর্থকেরা মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সহিংস ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, অডিও রেকর্ডিং ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে সরকার। কিছু ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কিছু কারখানার মালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ ধরনের কারখানার তালিকা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কাছে চাওয়া হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নামে যাঁরা আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন, তাঁদের পরিচয়ও জানতে চেয়েছে সরকার।
শুধু তাই নয়, শিল্পাঞ্চলের আন্দোলনের পেছনে দেশের বাইরে থেকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চলতি মাসের শুরুতে তিনি বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী সীমান্তের ওপার থেকে কিছু ব্যক্তি নিরীহ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি শ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢুকে নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছেন। এসব ঘটনায় প্রকৃত শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে সরকার প্রস্তুত। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, কারখানা ভাঙচুর ও উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
৬৯০ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ লাখ শ্রমিক
রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র ২ নভেম্বরই দেশের অন্তত ৬৯০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে ১৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মস্থলে যেতে পারেননি।
বিজিএমইএর হিসাবে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৮২টি, সাভার, আশুলিয়া ও জিরাবোতে ২২৩টি এবং মিরপুরে ৬৫টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। নারায়ণগঞ্জের প্রায় ২০টি কারখানাও বন্ধ রাখে বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো।
এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে একাধিকবার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
২ নভেম্বরের পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি মিজানুর রহমান জানান, তাঁদের ৬৭০টি সদস্য কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের আরও ২০টি কারখানা বন্ধ থাকায় ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন।