অবশেষে নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস

অবশেষে নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে গাজা উপত্যকায় জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। সোমবার পাস হওয়া এই প্রস্তাবটিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মিদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির ব্যাপারটিরও উল্লেখ রয়েছে।

সোমবার (২৫মার্চ) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থার বৈঠকে প্রস্তাবটি ভোটের জন্য তোলার পর পরিষদের সব সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল। তবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপন বা ভেটো প্রদান করেনি দেশটি।

প্রসঙ্গত, এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যত প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, প্রায় প্রত্যেকটিতেই আপত্তি বা ভেটো দিয়েছে ইসরায়েলের সবচেয়ে পুরনো ও পরিক্ষীত মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণেই আর আলোর মুখ দেখেনি সেসব রেজোল্যুশন।

কিন্তু গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান অভিযান নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দিন দিন অসন্তোষ বাড়ছে। সোমবারের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো না দেওয়াকে সেই টানাপোড়েনেরই প্রতিফলন বলছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি পাসের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সেই বার্তায় পাস হওয়া প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে গাজায় জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি এবং সব জিম্মির নিঃশর্ত মুক্তির প্রস্তাব পাস হলো। প্রস্তাবটি যত শিগগির সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার ব্যত্যয় হলে তা হবে ক্ষমার অযোগ্য।’

আলজেরিয়া, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়াসহ নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি অস্থায়ী সদস্যদেশ আজ প্রস্তাবটি তুলেছিল। ভোটদানে বিরত ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ সদস্যের (৫ স্থায়ী ও ১০ অস্থায়ী সদস্য) নিরাপত্তা পরিষদের বাকি সব সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আজকের অবস্থান গাজায় হামলা নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতভিন্নতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। গাজায় প্রাণহানি নিয়ে কিছুদিন ধরে ইসরায়েলের সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য সম্প্রতি ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

এআর-২৫/৩/২৪

Share your comment :