এক রাস্তার দুই মালিক, দফতরে চলছে রশি টানাটানি

এক রাস্তার দুই মালিক, দফতরে চলছে রশি টানাটানি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
এক রাস্তার দুই মালিক। এ নিয়ে দুই দফতরে চলছে রশি টানাটানি। এমন ঘটনা ঘটছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। দুই মাস আগে কাঁচারাস্তায় ইট বিছায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। এলজিইডি সেই ইট তুলে খোয়া বানিয়ে সড়কের পাশে স্তূপ করে রেখেছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গ্রামীণ সড়ক টেকসই করতে সবে ইট বিছানোর কাজ শেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। সেই কাজের চূড়ান্ত বিলও পাননি ঠিকাদার। এর মধ্যে সেই সড়কে বিছানো ইট তুলে খোয়া বানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণে হেরিং বোন বন্ডকরণ (এইচবিবি) প্রকল্পের আওতায় উত্তর পাড়িয়ার আজিজুল হকের বাড়ির সামনে থেকে কমরেড কম্পোরাম সিংহ কমপ্লেক্স পর্যন্ত ৫০০ মিটার ও বন্দরপাড়ের আতাবউদ্দীনের বাড়ির সামনে সেতু থেকে সোনাকান্দার সেতু পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তায় ইট বিছানোর জন্য কাজ পান ঠিকাদার হাসান মাহমুদ। ৮০ লাখ ৯৯ হাজার ৪১৫ টাকা চুক্তিমূল্যে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে কাজটি শেষ করেন ঠিকাদার।

ঠিকাদার কাজ শেষে বিল জমা দিলেও এখনো পাননি। এর মধ্যে পাড়িয়া ইউপি কার্যালয় থেকে ফুটানিরহাট পর্যন্ত ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করতে গত ১৩ মার্চ দরপত্র আহবান করে এলজিইডি। কাজটি পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫ মে কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উত্তর পাড়িয়ার আজিজুল হকের বাড়ির সামনে থেকে কমরেড কম্পরাম সিংহ কমপ্লেক্স পর্যন্ত রাস্তায় বিছানো ইট তুলে খোয়া বানাতে শুরু করে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, কয়েক দিন আগে কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানো শেষ হলো। কাজ শেষ না হতেই রাস্তায় বিছানো ইট তুলে খোয়া করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা লোকজনের কাছে জানতে পেরেছি, রাস্তাটি নাকি পিচঢালাই হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বললেন, রাস্তা যখন পাকা হবে, তখন ইট বিছানোর কাজ হলো কেন? এভাবে সরকারের টাকা অপচয়ের মানে কী?

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, পাড়িয়ায় কমরেড কম্পোরাম সিংহ স্মরণে কমপ্লেক্স করা হয়েছে। কমপ্লেক্স দেখতে সেখানে অনেক দর্শনার্থী আসছেন। দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তায় ইট বিছানো হয়। কাজ শেষ হলেও এখনো ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে এলজিইডি রাস্তাটি পাকা করতে দরপত্র আহ্বান করেছে। নিযুক্ত ঠিকাদার রাস্তার ইট তুলে খোয়া করেছেন। এ নিয়ে তারা বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সফিউল আলম বলেন, রাস্তাটি এলজিইডির ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকাভুক্ত। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে রাস্তায় ইট বিছানো হয়েছে। পরে এলজিইডি থেকে রাস্তাটি পাকা করতে দরপত্র আহবান করা হয়। কাজটি পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার ইট তোলা শুরু করে। ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফছানা কাওছার বলেন, দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে এমনটি ঘটেছে। এ নিয়ে কী করা যায়, তা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এআর-১৭/০৫/২৪

Share your comment :