খুলনায় বিদ্যুতের ২৫ উপকেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে

খুলনায় বিদ্যুতের ২৫ উপকেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ৬০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫টি ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পাঁচটি পৃথক লটে বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য এসব উপকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১ লাখ ৭০ হাজার টন সার কেনাসহ বৈঠকে অনুমোদিত হয় মোট ১৯টি ক্রয় প্রস্তাব।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে ক্রয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন করোনা আক্রান্ত অর্থমন্ত্রী। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি (খুলনা বিভাগ) প্রকল্পের পাঁচটি প্যাকেজে এই ২৫টি উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাস হয়েছে।’

প্যাকেজ নম্বর কেডি-ডব্লিউ-১-এর আওতায় পাঁচটি উপকেন্দ্র নির্মাণে ১৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, প্যাকেজ নম্বর কেডি-ডব্লিউ-২-এর আওতায় পাঁচটি উপকেন্দ্র নির্মাণে ১৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, প্যাকেজ নম্বর কেডি-ডব্লিউ-৩-এর আওতায় পাঁচটি উপকেন্দ্র নির্মাণে ১১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, প্যাকেজ নম্বর কেডি-ডব্লিউ-৪-এর আওতায় পাঁচটি উপকেন্দ্র নির্মাণে ১১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, প্যাকেজ নম্বর কেডি-ডব্লিউ-৫-এর আওতায় পাঁচটি উপকেন্দ্র নির্মাণে ১১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এতে মোট খরচ হবে প্রায় ৬০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রস্তাবে ৯০ হাজার টন ইউরিয়া, ৪০ হাজার টন এমওপি এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৬৩৩ কোটি টাকা। কানাডা, সৌদি আরব, কাতার এবং বাংলাদেশের কাফকোর কাছ থেকে এসব সার কেনা হবে। বৈঠকে সার গুদামজাত করার জন্য উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় ৬৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন চারটি বাফার গুদাম নির্মাণেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ২৬৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এদিকে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ১০১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ইজি জেনারেল ট্রেডিং এবং নাবিল নাবা ফুড প্রডাক্ট থেকে এ ডাল কেনা হবে। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০১ টাকা ৯৪ পয়সা।

এ ছাড়া বৈঠকে কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রনিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহে ১৭৭ কোটি টাকার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত বৈঠকে টিসিবির খোলা বাজার থেকে পণ্য কেনার সুযোগ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

এআর-১৭/০৫/২৪

Share your comment :