প্রাথমিকে বরাদ্দ বেড়েছে ৪ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা

প্রাথমিকে বরাদ্দ বেড়েছে ৪ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৪ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ বাজেটে এ প্রস্তাব করেন। বিকাল ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার মূল কারিগর হবে স্মার্ট নাগরিক। তাই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সফল করতে হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় উপযুক্তভাবে গড়ে তুলতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতাবর্ধক ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণকে আমাদের এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্যতম বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর জ্ঞানের ভিত তৈরি হয় প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে। তাই জাতীয় উন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষার প্রভাব সুগভীর এবং এটি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান ধাপ। এ বিবেচনায় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলমান কার্যক্রমগুলোকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি এ খাতের উন্নয়নে নতুন নতুন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব নিখুঁতভাবে অনুধাবন করেছিলেন এবং সে কারণে অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ১৯৭৩ সালে দেশের ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩৪ রেজিস্টার্ড ও কমিউনিটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন এবং ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৬ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারি খাতে অন্তর্ভুক্ত করেন।
এছাড়া শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৭৯ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে এবং সহকারী শিক্ষকের ২৬ হাজার ৩৬৬টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষকের সংখ্যা ২০০৬ সালের প্রতি ৫২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে প্রতি ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জনে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৫টি কোর ও ৩টি নন-কোর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইংরেজি ও গণিতসহ অন্যান্য বিষয়ে ৫ লাখ ৩৭ হাজার জন শিক্ষককে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৬৭টি পিটিআইতে উচ্চ প্রযুক্তি ক্ষমতাসম্পন্ন আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ পায় সে লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮২০টি শ্রেণিকক্ষ, ৬৫ হাজার ৮৩টি ওয়াশব্লক নির্মাণ এবং ৭৯ হাজার ৯৮৯টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ২৩ হাজার ৩৮৫টি শ্রেণিকক্ষ ও ১৯ হাজার ৯০৩টি ওয়াশব্লক নির্মাণ ৭ হাজার ৫৬৩টি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। শিক্ষার প্রধান উপকরণ বই যাতে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই পায় সে জন্য ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে নিজস্ব বর্ণমালা সম্বলিত ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের (প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৩য় শ্রেণি) নিজস্ব মাতৃভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক ও শিখন- শিখানো সামগ্রীও বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক স্তর এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সকল শিক্ষার্থীর জন্য সর্বমোট ৯ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ৬০৬টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে।
এএ/

Share your comment :