রোজা না রাখায় গ্রেফতার

রোজা না রাখায় গ্রেফতার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সারা বিশ্বেই পালিত হচ্ছে রমজান মাস, সকল মুসলিম চেষ্টা করেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ ধর্মীয় নিয়ম মেনে ইসলামের অন্যতম এই হুকুম পালন করার। তবে কেউ রোজা না রাখলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এমনটা কেউ কোথাও শুনেছি কি-না ? বিশেষ করে রাষ্ট্রের আইনে তাদেরকে রোজা না রাখার কারণে শাস্তি পেতে হয়। ঠিক এমন ঘটনা সামনে এসেছে পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরীর উপকূলের নাইজেরিয়া নামক দেশটিতে।

দেশটিতে ১১ জনকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ, আটকৃতদের অপরাধ তারা রোজা রাখেনি। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা দিনের বেলা খাবার খেয়েছেন।

গত বুধবার বিবিসির এক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করা হয় ।

ব্রিটিশ এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ লাখ
২৩ হাজার ৭৬৮ বর্গকিলোমিটারের দেশটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও এখানকার ১২ প্রদেশে শরিয়া আইন মানা হয়। এই ১২ প্রদেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমানদের সংখ্যাই বেশি।
১৯৯৯ সাল থেকে এই প্রদেশগুলোতে শরিয়া আইন মানা হয় ।
মুসলিম প্রধান এসব প্রদেশের মধ্যে একটি হলো কানো। আর এখানকার ইসলামিক পুলিশ ‘হিসবাহ’ নামে পরিচিত এবং প্রতি বছর রমজান মাসে তারা খাবারের দোকান এবং খোলা বাজারে তল্লাশি চালিয়ে থাকে।

গত মঙ্গলবার এমন এক অভিযানে এই মুসলমানদে আটক করা হয়। আটক ১১ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং একজন নারী। পরে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা মিস করবে না বলে শপথ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

হিসবাহের মুখপাত্র (নাইজেরিয়ান ইসলামি পুলিশ) লওয়াল ফাগে বিবিসিকে বলেছেন, আমরা মঙ্গলবার ১১ জনকে পেয়েছিলাম যার মধ্যে একজন নারীও ছিলেন, যিনি চিনাবাদাম বিক্রি করছিলেন এবং তাকে তার জিনিসপত্র থেকে খেতে দেখা গেছে এবং পরে কিছু লোক আমাদের এই বিষয়টি জানায়।

তিনি আরও জানান, পবিত্র রমজান মাসে এই ধরনের অনুসন্ধান ও তল্লাশি অব্যাহত থাকবে। তবে যারা মুসলিম নয় তারা এই অভিযানের আওতার বাইরে থাকবে।

লওয়াল ফাগে বলছেন, আমরা অমুসলিমদের গ্রেফতার করি না। কারণ এটি (রোজা) তাদের পালন করার বিষয় নয়। শুধু একটি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেই আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করি। আর তা হচ্ছে, যাদের রোজা রাখার কথা, সেসব মুসলমানের কাছে বিক্রি করার জন্য যারা খাবার রান্না করে।

ইসলামিক পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা এখন থেকে রোজা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছে এবং ‘তাদের পরিবার যেন তাদের পর্যবেক্ষণ করে, সে জন্য তাদের আত্মীয় বা অভিভাবকদেরও ডাকা হয়েছিল।
এআর-১৪/৩/২৪

Share your comment :