উত্তাল জবি ক্যাম্পাস

জবি
  © সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিন ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী ও দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী চলছিল। এ সময় জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন দাবি করেন, জকসুর ব্যর্থতা এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ক্যাম্পাসে ‘মব কালচার’ তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উপস্থাপন করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুরেরও অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে কয়েকজন শিক্ষকের মদদ থাকার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়েছে। এতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি নিজেও মুখ, নাক, হাত ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ বা অন্য কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও আশপাশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।


মন্তব্য