উত্তাল শ্যামনগর
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ PM , আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে উপজেলা সদরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শ্যামনগর বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ বলেন, জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তারা হতাশ। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আহ্বান জানান।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নাগরিক নেতা আশেক ই এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে একাধিক ভিডিও প্রকাশের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। তার দাবি, পরে সংসদ সদস্য নিজেই ফেসবুকে সংশ্লিষ্ট নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতি দেন। এরপর আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে স্থানীয়দের হাতে তাকে একটি বাড়িতে আটক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক ই এলাহি মুন্না, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদুল আলম, চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।